কেরানীগঞ্জে আব্দুলাহপুরে উচ্ছেদের এক দিন পরই আবার দখলে ফুটপাত-সড়ক, প্রশাসনে তদারকি অভাব
কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি-
ঢাকার কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুরে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উপজেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানের এক দিন না যেতেই আবারও দখল হয়ে গেছে উচ্ছেদ করা স্থানগুলো। আগের মতোই ফুটপাত ও সড়কের ওপর বসতে শুরু করেছে অবৈধ দোকানপাট। এতে প্রশাসনের অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসনের তদারকির অভাব এবং উদাসীনতার সুযোগে দখলদাররা আবারও জায়গা দখল করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল্লাহপুর এলাকায় ফুটপাতের প্রতিটি দোকান থেকে দৈনিক ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা তোলা হয়। স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র এসব দোকান থেকে প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকা চাঁদা আদায় করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই অর্থ বিভিন্ন মহলে ভাগ-বাঁটোয়ারা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
এর আগে গত সোমবার (২ নভেম্বর)
যানজট নিরসন এবং পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে দুই শতাধিক অবৈধ দোকান ও স্থাপনা উচ্ছেদ করে। অভিযানে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করা হলেও স্থায়ীভাবে তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর তদারকি না থাকায় পরিস্থিতি আবারও আগের অবস্থায় ফিরে গেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ঢাকঢোল পিটিয়ে অভিযান চালানো হলো। দুই শতাধিক দোকান উচ্ছেদের খবরও প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে। কিন্তু বাস্তবে অভিযানের সুফল পাওয়া যায়নি। উচ্ছেদের পরদিনই আবার আগের জায়গায় দোকান বসেছে। তাঁদের প্রশ্ন, অভিযান যদি স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত রাখার জন্যই হয়ে থাকে, তাহলে এত দ্রুত কীভাবে আবার ফুটপাত ও সড়ক দখল হলো?
আনিসুজ্জামান নামের এক পথচারী বলেন, আমরা ভেবেছিলাম উচ্ছেদের পর অন্তত ফুটপাত দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারব। কিন্তু এক দিন যেতে না যেতেই আবার দোকান বসেছে। প্রশাসন অভিযান চালানোর পরও কীভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা আবার জায়গা দখল করছে, সেটি আমাদের বোধগম্য নয়। এটি কি শুধু লোকদেখানো অভিযান, নাকি অভিযান শেষে তদারকির অভাবের সুযোগ নিচ্ছে দখলদাররা?
স্থানীয়দের দাবি, শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখার পাশাপাশি অবৈধভাবে দোকান বসানোর পেছনে কারা জড়িত এবং চাঁদা আদায়ের অভিযোগের সঙ্গে কারা সম্পৃক্ত, তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে নিয়মিত নজরদারি ও পুনর্দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. উমর ফারুক বলেন, ‘সড়ক ও ফুটপাত দখল করার কোনো সুযোগ নেই। আবারও দখল করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





